,

Home চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে দুদকের অভিযান

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে দুদকের অভিযান

0
56

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) বিদ্যুৎ উপ-বিভাগের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাসের অনিয়ম খুঁজতে অভিযানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে চসিকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযানে যায় দুদকের একটি টিম। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয় -১ এর সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক।

সূত্র জানায়, প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানে এসেছেন দুদক কর্মকর্তারা। তারা ঝুলন কুমার দাশের ৪১৬ নম্বর রুমে বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করেছেন। পরে ঝুলন দাশকে নিয়ে দুদকের টিম নির্বাহী প্রকৌশলী তাসমিয়া তাহসিনের রুমে (৩০৩ নম্বর কক্ষ) যান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযান চলমান রয়েছে।

এদিকে, দুদক সূত্রে জানা যায়, নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকায় জায়গার মালিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘স্কাই প্রপার্টিজ’ নামের একটি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করেন এ প্রকৌশলী। তবে চুক্তি অনুযায়ী ভবন মালিকদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো টাকা আত্মসাৎ করেছেন ঝুলন কুমার দাশ। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৪ জুন দুদকে অভিযোগ দেন নাছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। সেই অভিযোগের তদন্তে অভিযানে নামে দুদক টিম।
কাগজে কলমে প্রতিষ্ঠানটি মালিক হিসেবে নিজের শ্যালক তপন কুমার দাশকে দেখালেও এই ব্যবসার মুল বিনিয়োগকারী চসিকের এই প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ।২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই ভবনের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা হয় নি। এই নিয়ে জায়গার মালিক ও ফ্লাটের মালিকদের সাথে বেশ কয়েকদফা বৈঠকও করেছেন ঝুলন কুমার দাশ।

জানা যায়, নগরীর লাভলেইন এলাকার স্বরনীকা ক্লাব প্রাঙ্গণে সর্বশেষ বৈঠকে স্কাই প্রপার্টিজের পক্ষে তিনি খুব তাড়াতাড়ি পুরো ভবনের পুরো কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি রাখেন নি ঝুলন কুমার দাশ।

জায়গার মালিকের মেয়ে সাজেদা বেগম ডলি অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে নানা ছলনা করেন এই প্রকৌশলী। ভাইবোন মিলে তিনটি ফ্লাট পাবার কথা। দীর্ঘদিন সেই ফ্লাটের জন্য অপেক্ষা করলেও তিনি কাজ সম্পন্ন করে বুঝিয়ে দেননি। এমনকি চুক্তি অনুসারে ভাড়াও দেননি গত সাত বছর৷

প্রসঙ্গত, ঝুলন কুমার দাশের বিরুদ্ধে জাইকার এলইডি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল শুরু থেকেই। প্রকল্পটির বৈদ্যুতিক পোল স্থাপনে ঠিকাদারের যোগসাজশে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। একটি বৈদ্যুতিক পোলে উচ্চতা কমিয়ে বিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটে। চসিকের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জাইকা এলইডি প্রকল্পে মানহীন ক্যাবল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার পর ঝুলন কুমার দাশ নিজ উদ্দ্যোগে চুয়েটের ল্যাবে পুনরায় ক্যাবল পরীক্ষা করে ‘মানসম্পন্ন’ ক্যাবলের রিপোর্ট নথিভুক্ত করেছেন। এ কারণে গত বছরের আগস্টে সড়ক বাতি নিয়ে দুর্নীতির কারণে চসিকের থেকে শোকজও খান প্রকৌশলী ঝুলন দাশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here